চাদের মাসআলা

চাঁদের মাসআলা নিয়ে ইসলামী শরীয়তের সিদ্ধান্ত কি?

সম্মানিত চার ইমাম, সকল মুজতাহিদ এবং জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের সর্বসম্মত মত হলো ভৌগলিক কারণে চন্দ্রমাসের ১ তারিখের চাঁদ কখনই প্রথম দিন সারা পৃথিবী থেকে দেখা যায় না। বরং সমগ্র পৃথিবীতে নুতন চাঁদ দেখা যেতে ২ থেকে ৩ দিন সময় লেগে যায়। এখন প্রশ্ন হল প্রথম দিন ভূ-পৃষ্ঠের যে সব দেশে নুতন চাঁদ দেখা গেল ঐ সব দেশে চন্দ্রমাসের ১ তারিখ, আবার ২য় দিন যেসব দেশে চাঁদ দেখা গেল সে সব দেশে নুতন করে ২য় ১ তারিখ, আবার ৩য় দিন যেসব দেশে চাঁদ দেখা গেল সেসব দেশে নুতন ৩য় ১ তারিখ গণনা করা হবে? অর্থাৎ নুতন চাঁদ দেখার ভিন্নতায় একই চান্দ্রমাসের ভিন্ন ভিন্ন তিনটি ১ তারিখ হবে? নাকি প্রথম দিনের দেখার ভিত্তিতেই সমগ্র পৃথিবীতে বিশ্ব জনীন (Universal) একটি তারিখ গণনা হবে? যাকে ফিকহের পরিভাষায়- اختلاف المطالع معتبر ام لا অর্থাৎ চাঁদ উদয়স্থলের বিভিন্নতা গ্রহণযোগ্য হবে কি হবে না? এটাই মূল প্রশ্ন।

এ প্রশ্নের জবাবে পবিত্র ইসলাম ধর্মের ১৪৪১ বছরের এ সুদীর্ঘ সময়কালে রচিত সকল ফিকহ গ্রন্থে সুস্পষ্ট সিদ্ধান্ত প্রদান করা হয়েছে যে, হানাফী, হাম্বলী, মালেকী মাযহাবের ঐক্যমতে এবং শাফেয়ী মাযহাবের একদলের মতে পৃথিবীর কোথাও চাঁদ দেখা গেলে সমগ্র পৃথিবীর জন্য ঐ চাঁদ চান্দ্রমাসের ১ তারিখ নির্ধারণ করবে এবং ঐ দিন থেকেই সমগ্র পৃথিবীতে বিশ্ব জনীন ১ তারিখ গণনা শুরু হবে। ফলে সমগ্র পৃথিবীতে একই দিনে রোযা, ঈদ, কুরবানী, আইয়্যামে তাশরীক সহ চন্দ্রমাসের তারিখ নির্ভর সকল ইসলামী ইবাদাত পালিত হবে। কিন্তু বিগত দিনে ইমাম ও ফকীহগণের জীবদ্দশায় আধুনিক উন্নত ইলেকট্রনিক সংবাদ মিডিয়া ছিলনা। যার ফলে তারা তাৎক্ষনিকভাবে চাঁদ দেখার সংবাদ এক দেশ থেকে অন্য দেশে দিতে বা নিতে পারেন নি। এ ওজর বা বাধ্যবাধকতার কারণেই তারা বাহ্যিক চোখে যেদিন যে অঞ্চলে চাঁদ দেখেছেন এবং যতদূর পর্যন্ত সংবাদ দিতে-নিতে পেরেছেন ততদূর পর্যন্ত অঞ্চলে আমল করেছেন। অবশ্যই এটা তাদের ভুল ছিলনা বরং সময়ের দাবীতে এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার অসুবিধার কারণে তাদের এ আমল সম্পূর্ণ যুক্তি সঙ্গত ছিল। ওজর সম্বলিত তাদের সে আমলই কালের পরিক্রমায় সমাজের প্রতিটি স্নায়ূতে মিশে আছে। কিন্তু বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অবদানে ওজর সম্বলিত উক্ত আমল পরিহার করে কুরআন, সুন্নাহ্‌ এবং ফিক্‌হের মূল সিদ্ধান্তের বিপরীত আমল করার কোন সুযোগ নেই।

No Comments Yet

Leave a Reply

ফেইসবুকে আমাদের সাথে থাকুন